• ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mario Rivera

খেলার দুনিয়া

শেষ ম্যাচের আগে সমর্থকদের কাছে কেন ক্ষমা চাইলেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা?‌

মানোলো দিয়াজকে সরিয়ে আইএসএলের মাঝপথে মারিও রিভেরার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। মাঝে কয়েকটা ম্যাচে দায়িত্ব সামলেছিলেন রেনেডি সিং। রেনেডির কোচিংয়ে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল লালহলুদ শিবির। পরপর হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছিল। মারিও রিভেরা দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেছিলেন সমর্থকরা। রিভেরা কিন্তু স্বপ্নের সারথি হতে পারেননি। দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারেননি। একটা ম্যাচে দলকে জয় এনে দিয়েছেন ঠিকই, লিগ টেবিলে সেই লাস্ট বয় হয়েই থাকতে হচ্ছে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে। শনিবার আইএসএলে নিজেদের শেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে খেলতে নামছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। বেঙ্গালুরুকে হারালেও লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থানের কোনও হেরফের হবে না লালহলুদ শিবিরের। সেই লাস্ট বয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তবু নিজেদের সম্মানের কথা ভেবে জিততে মরিয়া লালহলুদ ব্রিগেড। শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন মারিও রিভেরা। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ম্যাচে আমরা লড়াই করেছি। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল পাইনি। সমর্থকদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি দলকে প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে না পারার জন্য। তবে ফুটবলাররা সীমিত ক্ষমতা নিয়েও যেভাবে লড়াই করেছে, তাতে সমর্থকরা গর্বিত হবে।মারিও রিভেরা আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফুটবলাররা যথেষ্ট উন্নতি করেছে। জয় না এলেও দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। দলের খেলায় আমি গর্বিত। আশা করছি শেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসিকে হারিয়ে সম্মান নিয়ে লিগ শেষ করতে পারব। এতে সমর্থকরা লজ্জার গ্লানি কাটিয়ে কিছুটা মানসিক শান্তি পাবে। বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সমস্যায় জর্জরিত লালহলুদ শিবির। চোটের জন্য খেলতে পারবেন না ড্যারেন সিডোয়েল। নাকের চোটের জন্য হীরা মণ্ডল কলকাতা ফিরে এসেছেন। ফ্রান সোতার হাতে চোট। মার্সেলো রিবেইরো পুরো ফিট নন। এই অবস্থায় এশিয়ান কোটার নতুন বিদেশি নেপালের অনন্ত তামাংকে শেষ ম্যাচে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে মারিও রিভেরার।

মার্চ ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

লাস্ট বয়ের তকমা ঘোঁচানোই এখন চ্যালেঞ্জ এসসি ইস্টবেঙ্গলের কাছে

আইএসএলে এই মুহূর্তে লিগ টেবিলে সবার শেষে রয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। ১৮ ম্যাচে মাত্র ১০ পয়েন্ট। ১৯ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলে দশম স্থানে রয়েছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড। সোমবার আইএসএলের দুই লাস্ট বয়ের লড়াই। বাকি দুম্যাচ জিতলে বড়জোর দশম স্থানে শেষ করতে পারবে এসসি ইস্টবেঙ্গল। এর বেশি এগোনোর সুযোগ নেই। কারণ, ১৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট পেয়ে নবম স্থানে রয়েছে এফসি গোয়া। বাকি দুটো ম্যাচ জিতলেও গোয়াকে টপকাতে পারবে না। শুধু লাস্ট বয় হওয়ার তকমা মুছবে। আপাতত এটাই লক্ষ্য এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরার। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে লালহলুদ কোচ বলেন, এই ম্যাচটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জিতলে আমরা লিগ টেবিলে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে টপকে যাব। আপাতত সেই চেষ্টাই করব। আমরা ভাল খেলছি ঠিকই। কিন্তু জয় চাই। এই মুহূর্তে আমাদের হারানোর কিছু নেই। লিগের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ফুটবলারদের নতুন করে মোটিভেট করার কিছু দেখছেন না এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। তাঁর কথায়, আমরা যদি শেষ ৪৫ দেখি, তাহলে দেখা যাবে ফুটবলারদের মুড খুবই ভাল জায়গায় আছে। দল আগের থেকে অনেক ভাল খেলছে। আরও বেশি আক্রমণাত্মক। ফুটবলারদের আলাদা করে মোটিভেট করার কিছু নেই। শেষ দুই ম্যাচের জন্য অনন্ত তামাংকে দলে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। কেন নেপালের এই ডিফেন্ডারকে দলে নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। তাঁর কথায়, টমিস্লাভ মার্সেলা অস্ট্রেলিয়ার একটা ক্লাবে গোটা মরশুমের জন্য ভাল প্রস্তাব পেয়েছে। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যাবে কিনা। আমি ওকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছি। মার্সেলার জায়গায় একজন এশিয়ান কোটার বিদেশি ডিফেন্ডার দরকার ছিল। তাই অনন্ত তামাংকে নেওয়া হয়েছে। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অনন্তকে খেলাবেন কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি মারিও রিভেরা।এসসি ইস্টবেঙ্গেলের দায়িত্ব নেওয়ার পর শেষ কয়েকটা ম্যাচে আলাদা আলাদা ফর্মেশনে দলকে খেলাচ্ছেন মারিও রিভেরা। শেষ দুই ম্যাচে ১৮ জন ফুটবলারকে খেলিয়েছেন। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধেও স্ট্র্যাটেজি বদল করছেন লালহলুদ কোচ। প্রথম একাদশেও বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করতে চলেছেন। তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে মারিও রিভেরার চোখ ৩ পয়েন্টে। তাহলেই যে লাস্ট বয়ের তকমা ঘুঁচবে। আপাতত এটাই সম্মানের হয়ে দাঁড়িয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গলের কাছে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

অন্যতম সেরা ম্যাচ খেলেও জয় অধরা এসসি ইস্টবেঙ্গলের

মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা বলেছিলেন, একমাত্র ভাগ্যই তাঁদের ড্র করাতে পারে কিংবা জেতাতে পারে। ভাগ্য সহায় হল না লালহলুদ শিবিরের। আইএসএলে নিজেদের অন্যতম সেরা ম্যাচ খেলেও মুম্বই সিটি এফসির কাছে হারতে হল মারিও রিভেরার দলকে। ম্যাচের ফল মুম্বই এফসির পক্ষে ১০। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল এসসি ইস্টবেঙ্গলতে। জিতে সেমিফাইনালের লড়াই জমিয়ে দিল মুম্বই সিটি এফসি।সেমিফাইনালের যাওয়ার জন্য এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না মুম্বই সিটি এফসির সামনে। অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধ দেখলে মনে হবে, এসসি ইস্টবেঙ্গলের কাছেই যেন মরণবাঁচন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়েছিলেন মারিও রিভেরার ফুটবলাররা। ৮ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত লালহলুদ। নওরেম মহেশ সিংয়ের শট আটকে দেন এক ডিফেন্ডার। ২৬ মিনিটে পেনাল্টি পেতে পারত এসসি ইস্টবেঙ্গল। নওরেম মহেশ সিংকে বক্সের মধ্যে হাত দিয়ে টেনে ফেলে দেন মোর্তাদা ফল। রেফারি এড়িয়ে যান। ৪২ মিনিটে আবার মহেশ সিংয়ের সামনে গোল করার সুযোগ এসে গিয়েছিল, কাজে লাগাতে পারেননি। যা সুযোগ পেয়েছিল, প্রথমার্ধেই ২ গোলে এগিয়ে যাওয়ার কথা এসসি ইস্টবেঙ্গলের।ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্তকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হাতে কালো ব্যাজ পড়ে এদিন মাঠে নেমেছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। প্রথমার্ধে লালহলুদের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, ফুটবলাররা হয়তো ভাল শ্রদ্ধার্ঘই দেবেন ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলারকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা বদলে গেল। শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে ওঠে মুম্বই সিটি এফসি। ৫১ মিনিটে এগিয়েও যায়। ব্র্যাডেন ইনম্যানের কাছ থেকে বল পেয়ে বিপিন সিং ডানদিক দিয়ে এগিয়ে যান। কাট করে ভেতরে ঢুকে বাঁপায়ের মাটিঘেঁষা জোরালো শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। মুম্বই সিটিও আক্রমণাত্মক খেলার স্ট্র্যাটেজি নেয়। ৭০ মিনিটে ফ্রান সোতার শট আটকে দেন মুম্বই গোলকিপার। ৭৪ মিনিটে মুম্বই সিটি এফসির হয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি বিনিত রাই। ৮০ মিনিটে ফ্রান সোতার শট দারুণভাবে বাঁচান মহম্মদ নওয়াজ। শেষদিকে মরিয়া হয়েও সমতা ফেরাতে পারেনি এসসি ইস্টবেঙ্গল।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌ফুটবলারদের ওপর ভরসা নেই রিভেরার?‌ জয়ের জন্য ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে লালহলুদ কোচ‌

আইএসএলের প্রথম পর্বের ম্যাচে গতবছরের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই সিটি এফসিকে আটকে দিয়েছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। প্রথম পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও ধারাবাহিকতা হারিয়েছে মুম্বই সিটি এফসি। ছন্দ হারানো মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে কি অঘটন ঘটাতে পারবে এসসি ইস্টবেঙ্গল? খুব একটা আশাবাদী নন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা। তবে তিনি মনে করছেন, ভাগ্যের সহায়তা থাকলে তাঁর দল ড্র করতে পারে কিংবা জিততেও পারে। মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে মারিও রিভেরা বলেন, প্রথম পর্বে মুম্বই সিটি এফসি দারুণ ছন্দে ছিল। তা সত্ত্বেও ওদের সঙ্গে আমরা ড্র করেছিলাম। সেবার আমরা ভাগ্যের সহয়তা পেয়েছিলাম। এবারও যদি আমরা ভাগ্যের সহায়তা পাই, তাহলে ড্র করতে পারি কিংবা জিততেও পারি। অর্থাৎ ফুটবলারদের ওপর বিন্দুমাত্র ভরসা নেই লালহলুদ কোচের। রিভেরা আরও বলেন, আমরা যদি ড্রয়ের জন্য খেলি, তাহলে ড্র করা সম্ভব হবে না। ড্রয়ের জন্য খেলাটা যথেষ্ট কঠিন। তাই আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। তার জন্য আমাদের ঝুঁকি নিতেই হবে। ভাগ্য যদি সহায় হয় তাহলে এই ম্যাচে সফল হতে পারি। সেমিফাইনালের জায়গা নিশ্চিত করতে মুম্বই সিটি এফসিকে জিততেই হবে। চাপ নিয়ে মাঠে নামতে হবে ডেস বাকিংহামের দলকে। সেই সুযোগটাই নিতে চায় এসসি ইস্টবেঙ্গল। মারিও রিভেরা বলেন, প্লে অফে যাওয়ার জন্য মুম্বই সিটি এফসির কাছে ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওদের সামনে জেতা ছাড়া রাস্তা নেই। তাই চাপ নিয়ে মাঠে নামবে। কিন্তু আমরা যে অলআউট খেলব, সে সুযোগ নেই। ম্যাচটা আমাদের কাছে মোটেই সহজ হবে না। মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে একেবারেই স্বস্তিতে নেই এসসি ইস্টবেঙ্গল। চোটের জন্য মার্সেলো রিবেরা ও অমরজিৎ সিং খেলতে পারবেন না। কার্ড সমস্যায় নেই হীরা মণ্ডলও। ধারাবাহিকতার দিক দিয়ে তিনিই লালহলুদের প্রাণ ভোমরা। নওচা সিংকেও পাবেন না লালহলুদ কোচ। কারণ তিনি মুম্বই সিটি এফসি থেকে লোনে এসসি ইস্টবেঙ্গলে এসেছে। চুক্তির সময় শর্ত ছিল তিনি মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না। আদিল খানও খেলতে পারবেন না। ফলে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সমস্যায় জর্জরিত এসসি ইস্টবেঙ্গল।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‘‌যে কোনও দলই এখন আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে ভয় পাবে’‌, কেন একথা বললেন লালহলুদ কোচ রিভেরা?‌

প্লে অফের আশা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। সেমিফাইনালের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। বাকি ৩ ম্যাচ লালহলুদের কাছে শুধুই সম্মানরক্ষার লড়াই। মারিও রিভেরার দলের সামনে হারানোর কিছু নেই। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের বিরুদ্ধে খেলতে যে কোনও দলই যে ভয় পাবে, একথা মনে করিয়ে দিয়েছেন লালহলুদ কোচ। রবিবার কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। কেরালার কাছে ম্যাচটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সেমিফাইনালের দৌড়ে ভালভাবে টিকে থাকার জন্য এই ম্যাচটা জিততেই হবে কেরালা ব্লাস্টার্সকে। হারলেই পিছিয়ে পড়তে হবে। কেরালার কাছে ম্যাচটা সহজ হবে না। সেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে মারিও রিভেরার মুখে। কেরালার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে লালহলুদ কোচ বলেন, আমার দল আগের থেকে অনেক ভাল ছন্দে রয়েছে। আমাদের এখন হারানো বেশ কঠিন। কোনও দলই এখন আর আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে খুশি হবে না। যে কোনও দলই আমাদের এখন ভয় পাবে। দল নিয়ে খুব একটা চিন্তায় নেই লালহলুদ কোচ। জ্যাকিচাঁদ সিং, ফ্রান সোতারা খেলার মতো জায়গায় চলে এসেছেন। কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে থাকতে পারেন সোতা। না হলে পরিবর্ত হিসেবে নামবেন। কয়েকজন ফুটবলারের হালকা চোট থাকলেও তাঁদের মাঠে নামতে কোনও অসুবিধা নেই বলে জানিয়েছেন মারিও রিভেরা। তাঁর কথায়, ফ্রান সোতা পুরোপুরি ফিট। কেরালার বিরুদ্ধে ওকে মাঠে নামানোর কথা ভাবছি। জ্যাকিচাঁদও অনুশীলন করছে। ওকেও স্কোয়াডে রাখব। কয়েকজন একটু মানসিক চাপে ভুগছে। দুএকজন ছাড়া বাকিরা মাঠে নামার জন্য তৈরি। এই মুহূর্তে ১৪ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলে পঞ্চম স্থানে রয়েছে কেরালা ব্লাস্টার্স। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেঙ্গালুরু এসি। ১৬ ম্যাচে তাদের পয়েন্টও ২৩ পয়েন্ট। ১৪ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জামশেদপুর এফসি। এসসি ইস্টবেঙ্গলকে হারালে তৃতীয় স্থানে উঠে আসার সুযোগ কেরালা ব্লাস্টার্সের সামনে। তাই বিপক্ষ যে জয়ের জন্য মরিয়া হবে, সেকথা মাথায় রাখছেন মারিও রিভেরা। কেরালাকে যথেষ্ট গুরুত্বও দিচ্ছেন। লালহলুদ কোচ বলেন, কেরালার সব বিভাগেই ভাল ভাল ফুটবলার আছে। দলে যথেষ্ট ভারসাম্য রয়েছে। গুরুত্ব তো দিতেই হবে।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বাকি ৫ ম্যাচে এসসি ইস্টবেঙ্গলের লক্ষ্য কী?‌ কঠিন কাজ করে চলেছেন রিভেরা

সোমবার আইএসএলে ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে খেলতে নামছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। লালহলুদ শিবির এখন লক্ষ্যভ্রষ্ট। সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা আগেই শেষ। আইএসএলের বাকি ম্যাচ সম্মান রক্ষার। সামনের মরশুমে তাঁদের কী হবে ফুটবলাররা নিজেরাও জানেন না। শুধু ভাল খেলে পরের মরশুমের জন্য নিজেদের জায়গা খোঁজা। এই পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের মোটিভেট করা খুবই কঠিন। সেই কঠিন কাজটাই করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা। যদিও রিভেরা মুখে বলছেন ফুটবলারদের উজ্জীবিত করার কিছু নেই। ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামাগ আগে এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ বলেন, ফুটবলাররা সবাই পেশাদার। জেতার জন্যই সব ম্যাচে মাঠে নামে। ভাল খেলে প্রমাণ করতে চায় ওরা কতটা যোগ্য। লিগ টেবিলে আমরা এই মুহূর্তে যে জায়গায় রয়েছি, সেখানে থাকার কথা নয়। জয়ের খিদে নিয়েই ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ফুটবলাররা। ১৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে দশম স্থানে রয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। লালহলুদের একধাপ এগিয়ে আসার পেছনে কৃতিত্ব অবশ্য তাদের নয়। নর্থইস্ট ইউনাইটেড হেরে একাদশ স্থানে নেমে গেছে। তাও আবার ১ ম্যাচ বেশি খেলেছে। বাকি ৫ ম্যাচ জিতলে লিগ টেবিলে মাঝামাঝি জায়গায় পৌঁছবে এসসি ইস্টবেঙ্গল। সেসব কথা মাথায় রাখছেন না লালহলুদ কোচ রিভেরা। তিনি বলেন, লিগ টেবিলে কোথায় শেষ করব সেটা মাথায় রাখছি না। আপাতত আমাদের লক্ষ্য পরের ম্যাচ। একেকটা ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। আপাতত লক্ষ্য ৩ পয়েন্ট। মরশুম শেষ হলে দেখা যাবে কত নম্বরে রয়েছি। আগের ম্যাচে চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে ১৫ মিনিটের মধ্যে ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও পরে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। চেন্নাইন ম্যাচের পারফরমেন্স আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে লালহলুদ শিবিরের। রিভেরা বলেন, চেন্নাইন ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে দল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। ওই ম্যাচের পারফরমেন্স ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ওডিশার বিরুদ্ধে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামব।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডার্বি হেরেও গর্বিত লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা!‌ কেন?‌

একসময় আলেজান্দ্রোকে সরিয়ে মারিও রিভেরাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন লালহলুদ কর্তারা। তাঁর হাত ধরেই আই লিগে দুঃসময় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এবারও আইএসএলে ঘুরে দাঁড়ানোয় আশায় সেই রিভেরার শরণাপন্ন হয়েছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। দায়িত্ব নিয়েই এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে জয়। কিন্তু পরের দুটি ম্যাচেই হার। লালহলুদ সমর্থকদের সবথেকে বেশি ধাক্কা দিয়ে গেছে ডার্বিতে এটিকে মোহনবাগানের কাছে ৩১ ব্যবধানে পরাজয়। সারা ম্যাচে ভাল খেলেও কেন হারতে হল এসসি ইস্টবেঙ্গলকে? ম্যাচের শেষ ২ মিনিটই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা। রক্ষণ জমাট করে ডার্বিতে দল সাজিয়েছিলেন লালহলুদ কোচ। লক্ষ্য ছিল প্রতিআক্রমণে গোল তুলে নেওয়া। হুগো বোমাস, ডেভিড উইলিয়ামসের মতো বিদেশি স্ট্রাইকারদের জ্বলে ওঠার সুযোগ দেননি আদিল খান, ফ্রাঞ্জো পর্চেরা। ড্যারেন সিডোয়েলের গোলে এগিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। হারলেও ফুটবলারদের পারফরমেন্সে খুশি লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা। ডার্বিতে হারের পর তিনি বলেন, যে কোনও হারে হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তার ওপর ডার্বির মতো ম্যাচে হার। খুবই খারাপ লাগছে। তবে ফুটবলাররা যেভাবে গোটা ম্যাচ লড়াই করেছে, তাতে আমি গর্বিত। আমার পরিকল্পনা মতোই ওরা খেলেছে। দারুণ লড়াই করেছে।ডার্বিতে হারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দুটি কারণকে উল্লেখ করেছেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা। তাঁর কথায়, শুরুতেই অঙ্কিতের চোট সমস্যায় ফেলে দিল। রক্ষণে পরিবর্তন করা ছাড়া আমার আর অন্য কোনও উপায় ছিল না। অমরজিৎ কিয়াম দারুণ লড়াই করেছে। আমরা এগিয়ে যাওয়ার পর এটিকে মোহনবাগান সমতা ফেরায়। আমরা চেয়েছিলাম ১০ ফল ধরে রাখতে। কিন্তু ওরা দ্রুত সমতা ফেরায়। আর একটু দেরিতে প্রথম গোল করলে হয়তো আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারতাম। শেষ ২ মিনিটে ২ গোল করে আমার সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছিল। রিভেরা আরো বলেন, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচটা ওপেন হয়ে গিয়েছিল। ওই সময় আমরা ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলাম। যদি ব্যবধান বাড়াতে পারতাম, তাহলে অন্যরকম ফল হত। হারলেও ফুটবলাররা গর্বিত করার খেলেছে।

জানুয়ারি ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডার্বিতে এসসি ইস্টবেঙ্গলের চমক নতুন বিদেশি, কে সেই বিদেশি?‌

টানা ১১ ম্যাচ পর এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে জয় স্বপ্ন দেখিয়েছিল লালহলুদ সমর্থকদের। সোমবার হায়দরাবাদ এফসির কাছে ৪০ গোলে হার প্রত্যাশার পারদ চুপসে গেছে। একাধিক ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে। পরের ম্যাচ ২৯ জানুয়ারি এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া মনোবল কি ডার্বিতে ফিরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন লালহলুদ ফুটবলাররা। দলের আত্মবিশ্বাস ফেরানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ কোচ মারিও রিভেরার।আগের ম্যাচে ভাল খেলেও হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে দলের পারফরমেন্সে হতাশ লালহলুদ কোচ। হায়দরাবাদের কাছে হারের পর তিনি বলেন, ম্যাচের ফল খুবই হতাশাজনক। একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। যদিও ফুটবলাররা সেরাটা দিয়েছিল। পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারেনি। বেশ কয়েকটা ভুল আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল। পাশাপাশি বিপক্ষের স্ট্রাইকার বার্থোলেমিউ ওগবেচেকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছে মারিও রিভেরা। তিনি বলেন, ওগবেচে আইএসএলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। ওর কাছেই হারতে হয়েছে। সব সুযোগগুলোই কাজে লাগিয়েছে।🚨𝐀𝐍𝐍𝐎𝐔𝐍𝐂𝐄𝐌𝐄𝐍𝐓🚨We are happy to announce the signing of versatile Spanish midfielder 𝐅𝐫𝐚𝐧𝐜𝐢𝐬𝐜𝐨 𝐉𝐨𝐬 𝐒𝐨𝐭𝐚 on a short term deal that will see him turn out for the red and gold brigade till the end of the season.#JoyEastBengal #WeAreSCEB #আমাগোক্লাব pic.twitter.com/u4FHeGFbNG SC East Bengal (@sc_eastbengal) January 25, 2022এসসি ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচই ডার্বি। ডার্বির আগে হায়দরাবাদ এফসির কাছে বিধ্বস্ত হলেও এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা। তিনি বলেন, সমর্থকদের কাছে ডার্বির গুরুত্ব কতটা, তা আমি জানি। ওদের জন্যই ডার্বি জিততে চাই। তবে ডার্বিতে নতুন বিদেশি ফ্রান সোতাকে পাবেন কিনা এখনও নিশ্চিত নন মারিও রিভেরা। বেশ কয়েকদিন আগেই গোয়ায় পৌঁছে গেছেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। গোয়ার হোটেলে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। মাঝে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাই অনুশীলনে নামতে পারেননি। ফ্রান সোতার আবার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট নেগেটিভ এলে বুধবার অনুশীলনে নামবেন। আমির দারভিসেভিচখএ ছেড়ে দিয়ে তাঁকে নেওয়া হচ্ছে। এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার কেমন জায়গায় আছে তা দেখেই ডার্বিতে খেলাবেন কিনা সিদ্ধান্ত নেবেন মারিও রিভেরা। ডার্বিতে তাঁর চমক হতে পারেন ফ্রান সোতা।

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডার্বির মহড়ায় ডাহা ফেল এসসি ইস্টবেঙ্গল, বিধ্বস্ত হায়দরাবাদের কাছে

আগের ম্যাচে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় স্বপ্ন দেখিয়েছিল সমর্থকদের। পরের ম্যাচেই সেই চেনা এসসি ইস্টবেঙ্গল। আবার হারের মুখ দেখতে হল লালহলুদ শিবিরকে। হায়দরাবাদ এফসির কাছে হারতে হল ৪০ ব্যবধানে। অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার খেসারত দিতে হল মারিও রিভেরাকে। ডার্বির ড্রেস রিহার্সাল একেবারেই ভাল হল না এসসি ইস্টবেঙ্গলের কাছে। একেবারে ডাহা ফেল। ৫ ম্যাচের নির্বাসন কাটিয়ে এদিন মাঠে ফিরে এসেছিলেন আন্তোনীয় পেরোসেভিচ। তাঁকে শুরু থেকেই মাঠে নামান মারিও রিভেরা। কিন্তু খেলার মতো জায়গায় থাকা সত্ত্বেও মার্সেলো রিবেইরাকে প্রথম একাদশে রাখেননি। আগের ম্যাচের মতোই এদিন ৪৩৩ ছকে দল সাজিয়ে ছিলেন রিভেরা। লক্ষ্য ছিল শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে হায়দরাবাদ এফসিকে চাপে ফেলা। কিন্তু সেই লক্ষ্যে এদিন সফল হননি। কারণ এফসি গোয়ার তুলনায় হায়দরাবাদ এফসি অনেক বেশি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল। হায়দরাবাদ এফসিরও লক্ষ্য ছিল ম্যাচের শুরু থেকে আধিরপত্য বজায় রাখা। আক্রমণ ঝড় তুলে ২১ মিনিটে এগিয়েও যায় হায়দরাবাদ এফসি। সৌভিক চক্রবর্তীর কর্ণারে হেড করেন বার্থোলোমেউ ওগবেচে। তাঁর হেড এসসি ইস্টবেঙ্গলের এক ডিফেন্ডারের গায়ে গেলে গোলে ঢুকে যায়। পিছিয়ে পড়ে কুঁকড়ে থাকেনি লালহলুদ। বরং সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণও তুলে নিয়ে আসছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। ৩৯ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। খেলার গতির বিরুদ্ধে ব্যবধান বাড়ায় হায়দরাবাদ এফসি। ৪৪ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে গতিতে আদিল খান ও অমরজিৎতে পেছনে ফেলে অরিন্দমকে ভট্টাচার্যকে পরাস্ত করে ২০ করেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ৩০ করেন অনিকেত যাদব।দ্বিতীয়ার্ধে সেমবই হাওকিপকে তুলে নিয়ে মার্সেলো রিবেইরাকে মাঠে নামান এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। তা সত্ত্বেও খেলায় ফিরতে পারেনি এসসি ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠ এদিন একেবারে ছিল নিস্প্রভ। উইং প্লেও একেবারে ভাল হয়নি। রক্ষণে ড্যান সিডোয়েলকেও জার্সি দেখে চিনতে হচ্ছিল। যখনও হায়দরাবাদ এফসি আক্রমণে উঠে এসেছে, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে লালহলুদ ডিফেন্স। এরই মধ্যে ৭৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ওগবেচে। ৮৪ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। মার্সেলো রিবেইরাকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন হায়দরাবাদ এফসি গোলকিপার কাট্টিমনি। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ফ্রাঞ্জো পর্চের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন কাট্টিমনি। বাকি সময়ে আর ব্যবধান কমাতে পারেনি এসসি ইস্টবেঙ্গল।

জানুয়ারি ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডার্বি নিয়ে কী ভাবছেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা?

টানা ১১ ম্যাচ জয় ছিল না। অবশেষে আগের ম্যাচে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে এবারের আইএসএলে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। গুমোট ভাব কেটে স্বস্তি ফিরে এসেছে লালহলুদ শিবিরে। একটা জয়ই আত্মবিশ্বাস বড়িয়ে দিয়েছে গোটা শিবিরের। তার ওপর চোটআঘাত কাটিয়ে উঠছেন ফুটবলাররাও। সোমবার হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে লালহলুদ শিবির যে মনোবল বাড়িয়ে মাঠে নামবে, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে শক্তি বাড়িয়ে বাড়িয়ে মাঠে নামবে এসসি ইস্টবেঙ্গল। ৫ ম্যাচের নির্বাসন কাটিয়ে দলে ফিরবেন আন্তোনীয় পেরোসেভিচ। কোয়ারেন্টিন পর্ব কাটিয়ে অনুশীলন শুরু করেছেন ড্যানিয়েল চিমার জায়গায় দলবদলের দ্বিতীয় উইন্ডোতে দলে নেওয়া ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্সেলো রিবেইরো। তাঁকেও হায়দরাবাদ এফসি ম্যাচে পাবেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা। রিবেইরাকে ঘিরেই হায়দরাবাদ ম্যাচের পরিকল্পনা করবেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ফ্রাঞ্জো পর্চে ও ড্যান সিডোয়েলের পারফরমেন্সও আশাজনক। সব মিলিয়ে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে অনেক ছন্দবদ্ধ লেগেছে। টমিস্লাভ মার্সেলো ছাড়া দলের আর কোনও ফুটবলারের চোট নেই। হীরা মণ্ডলও রবিবার থেকে অনুশীলনে ফিরতে পারেন। সব মিলিয়ে একটা অন্যরকম পরিবেশ লালহলুদ শিবিরে। একটা জয়ই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। এতদিন জয় না পাওয়া দল কীভাবে বদলে গেল? লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা বলেন, দেশে থাকলেও নিয়মিত আইএসএলের খেলা দেখতাম। আইএসএলে খেলা সব ফুটবলারের খেলার ধরণ আমার জানা। এসসি ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমে ফুটবলারদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশেছি। ফলে ওরা সমস্যাগুলো আমাকে খুলে বলতে পেরেছে। সেটাই আমাকে সাহায্য করেছে। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে খুব বেশি সময় পাননি। এই বছর লালহলুদের খেলা দেখে রিভেরার মনে হয়েছিল ফুটবলাররা একসঙ্গে ৩৪টে পাস খেলতে পারছে না। অনুশীলনে সেটার ওপরই বেশি জোর দিয়েছেন। তাতেই বদলে গেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। নির্বাসন কাটিয়ে পরের ম্যাচে ফিরছেন আন্তোনীয় পেরোসেভিচ। মার্সেলো রিবেইরাকেও পাবেন। আক্রমণভাগে শক্তি অনেকটাই বেড়ে যাবে এসসি ইস্টবেঙ্গলের। এটাই আরও আশাবাদী করে তুলেছে মারিও রিভেরাকে। তিনি বলেন, পেরোসেভিচ খুবই ভাল ফুটবলার। মার্সেলোকে নিয়েও আশাবাদী। অনেক উঁচুমানের স্ট্রাইকার। আশা করছি অন্যদের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেবে। ২৯ জানুয়ারি এটিকে মোহনবাগানের সঙ্গে ম্যাচ। ডার্বির উন্মাদনা সম্পর্কে জানেন রিভেরা। তবে এখনও ডার্বি নিয়ে ফুটবলারদের চাপে ফেলতে চান না। আপাতত হায়দরাবাদ এফসি ম্যাচই পাখির চোখ করছেন।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌আবার করোনা হানা, এসসি ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ আদৌও হবে তো?‌

১১ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। এখনও জয় আসেনি। লিগ টেবিলের একেবারে শেষে অবস্থান। দলের অন্দরে চূড়ান্ত ডামাডোল। চোটআঘাতের তালিকাও দীর্ধ। বেশ কয়েকজন ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত। মঙ্গলবার তালিকাটা আরও বেড়েছে। এই অবস্থায় লালহলুদে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন মারিও রিভেরা। বুধবার তাঁর কোচিংয়েই এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নামছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। লালহলুদে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে মারিও রিভেরা। প্রথম একাদশ গড়তেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। কারণ দলের একাধিক ফুটবলার চোটের কবলে। তার ওপর করোনায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন ফুটবলার কোয়ারেন্টিনে। আর দুএকজন ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত হলেই ম্যাচ স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন আগের ৩টি ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে আয়োজকরা। এই রকম সমস্যা সঙ্কুল পরিস্থিতিতেও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন লালহলুদের স্প্যানিশ কোচ। তবে নিজের প্রথছম ম্যাচেই জয়ের কথা ভাবছেন না মারিও রিভেরা। প্রথম লক্ষ্য দলকে ছন্দে নিয়ে আসা। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিন তিনি বলেন, মরশুমের মাঝখানে কোনও দলের দায়িত্ব নিলে বুঝতে হয় দলের সবকিছু ঠিকঠাক নেই। আপাতত লক্ষ্য দলকে ছন্দে ফেরানো, ফুটবলারদের মনোবল চাঙ্গা করা। তবে ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে আগের থেকে ভাল ছন্দে রয়েছে। দলের অবস্থা যাইহোক না কেন, প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক খেলার দিকে মন দিতে চান রিভেরা। তিনি বলেন, আমি টোটাল ফুটবলে বিশ্বাসী। আক্রমণাত্মক ফউটবল খেলতে চাই। তবে শুধু আক্রমণাত্মক খেললেই হবে না, রক্ষণও মজবুত রাখতে হবে। এদিকে, ফুটবলারদের তৈরি রাখলেও এপসি গোয়ার বিরুদ্ধে এসসি ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জানা গেছে, টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে আয়োজকদের কাছে ম্যাচ স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে। লালহলুদের বেশ কয়েকজন ফুটবলার চোটের কবলে। তার ওপর বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। মঙ্গলবার আবার নতুন করে দুজন ফুটবলারের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই অবস্থায় মাঠে নামা কঠিন। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচ স্থগিতের কোনও খবর নেই। হয়তো ম্যাচ শুরুর ঘন্টা ৩৪ আগে জানা যাবে আদৌও ম্যাচ হবে কিনা।

জানুয়ারি ১৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ফুটবলারদের কী বললেন রিভেরা?‌ স্থগিত হতে পারে লালহলুদের ম্যাচ

শিবিরে করোনার হানা। বেশ কয়েকদিন কোয়ারেন্টিন পর্ব কাটিয়ে আবার মাঠে এসসি ইস্টবেঙ্গল। তবে এবার অন্তর্বর্তীকালীন কোচ রেনেডি সিংয়ের তত্ত্বাবধানে নয়। কোয়ারেন্টিন পর্ব কাটিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন নবনিযুক্ত কোচ মারিও রিভেরা। বেশ কয়েকদিনের বিরতি কাটিয়ে বুধবার আবার এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে প্রথম পরীক্ষা মারিও রিভেরার। আইএসএলে এখনও জয়ের মুখ দেখেনি লালহলুদ ব্রিগেড। তার মধ্যেই দলের মধ্যে চূড়ান্ত ডামাডোল। ম্যানেজমেন্টের ওপর বিরক্ত হয়ে নেতৃত্ব ছেড়েছেন গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য। সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করেছেন রেনেডি সিং। এই অবস্থায় দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই চ্যালেঞ্জ নতুন কোচ মারিও রিভেরার। প্রথম দিন মাঠে নেমে অধিকাংশ ফুটবলারের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন লালহলুদের নতুন স্প্যানিশ কোচ। কোথায় সমস্যা হচ্ছে ফুটবলারদের কাছ থেকে জেনে নেন। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে আরও একদিন দলকে দেখে নেওয়ার সুযোগ পাবেন রিভেরা। প্রথমদিনের অনুশীলনের পর তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকায় কয়েকদিন ফুটবলাররা অনুশীলন করতে পারেনি। দল খারাপ জায়গায় রয়েছে। ফুটবলারদের কাছে কাজটা কঠিন হলেও আমার বিশ্বাস এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াবে। দল নিয়ে মাঠে নামলেও বুধবার এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে আদৌও এসসি ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শবিবার ও রবিবার আইএসএলের ম্যাচ স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। সোমবার জামশেদপুর এফসি ও হায়দরাবাদ এফসি ম্যাচ স্থগিত হয়ে গেল। আইএসএলের জৈব সুরক্ষা বলয়ে করোনা সংক্রমণের জেরে এই নিয়ে চারটি ম্যাচ স্থগিত হল। ৮ জানুয়ারি এটিকে মোহনবাগানের ওডিশা এফসি ম্যাচ এবং গত শনিবারের বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছিল। গতকাল বিকেল ৪টে ১৫ নাগাদ জানানো হয় কেরালা ব্লাস্টার্স বনাম মুম্বই সিটি এফসি ম্যাচটি স্থগিত হওয়ার কথা। আইএসএলের খেলা শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। আজ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে হায়দরাবাদ-জামশেদপুর ম্যাচ স্থগিতের কথা জানানো হয়। ১১ জানুয়ারি এসসি ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর পর থেকেই কোয়ারেন্টিনে জামশেদপুর। এসসি ইস্টবেঙ্গল টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, বুধবার তাদের ম্যাচও স্থগিত হয়ে যেতে পারে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

SC East Bengal-New Coach : ‌এসসি ইস্টবেঙ্গলের কোচের পদে সেই পুরনো মুখ, কে পেলেন দায়িত্ব?‌

মানোলো দিয়াজের পরিবর্ত কে হবেন তা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে জল্পনা চলছিল। অনেকগুলো নাম ভেসে উঠলেও দৌড়ে এগিয়েছিলেন মারিও রিবেরা। প্রত্যাশামতোই তাঁকে বাকি মরশুমের জন্য কোচ নিয়োগ করলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। বছরের প্রথম দিনই কোচ হিসেবে তাঁর নাম সরকারিভাবে ঘোষণা করে হয়েছে। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে স্পেনের মানোলো দিয়াজকে কোচ হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। কিন্তু প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ এই স্প্যানিশ কোচ। চলতি আইএসএলে দলকে একটা ম্যাচেও জয় এনে দিতে পারেননি দিয়াজ। লালহলুদ কর্তারা চেয়েছিলেন দিয়াজ নিজে থেকে সরে যান। কিন্তু আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়টা চূড়ান্ত না হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করতে রাজি হচ্ছিলেন না। অবশেষে বেশ কয়েকদফা বৈঠকের পর আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে দুই পক্ষ একমত হয়। তারপর কর্তাদের চাপে পদত্যাগ করেন দিয়াজ। দিয়াজ পদত্যাগ করার পরপরই সহকারী কোচ রেনেডি সিংকে অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন কর্তারা। তার মাঝেই নতুন কোচের সন্ধানে নেমে পড়েন। এসসি ইস্টবেঙ্গলের কর্তারা চাইছিলেন এমন একজন কোচকে দায়িত্ব দিতে, যিনি ভারতীয় ফুটবল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এলকো শাতোরি, মারিও রিভেরাদের নাম সামনে আসে কর্তাদের। শাতোরি নিজেই লালহলুদ কর্তাদের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। মারিও রিভেরা রাজি হন। শেষ পর্যন্ত তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়া হল। এর আগে লালহলুদে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে মারিও রিভেরার। ২০১৮১৯ সালে তিনি আলেসান্দ্রো মেন্ডেজের সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। ২০২০ সালে কর্তাদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে আলেসান্দ্রো মেন্ডেজ পদত্যাগ করে দেশে ফিরে যান। তখন লালহলুদ কর্তারা মারিও রিভেরাকে আই লিগের বাকি ৭ ম্যাচের জন্য দায়িত্ব দেন। তাঁর কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গল আই লিগে রানার্স হয়। প্রত্যাবর্তনের আশায় তাই আবার সেই পুরনো কোচেরই শরণাপন্ন হলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। সোমবার ভারতে চলে আসবেন মারিও রিভেরা। তবে ৪ জানুয়ারি বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচে তিনি রিজার্ভ বেঞ্চে বসতে পারবেন না। বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন পর্ব কাটিয়ে তিনি দলের দায়িত্ব নেবেন।

জানুয়ারি ০১, ২০২২

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

গলব্লাডারের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার! প্রকাশ্যে আসতেই গোপালকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে পিত্তথলির পাথরের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বেলেঘাটার বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর। গোপালের দাবি, তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার বাসিন্দা গোপাল পোড়েলের বয়স ৪৭ বছর। তিনি একশো দিনের কাজ করে সংসার চালান। বেশ কিছু দিন ধরে পেটের ডান দিকে ব্যথা হচ্ছিল তাঁর। চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করানো হলে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে।গোপালের অভিযোগ, পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্যই তাঁকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু তাঁর দাবি, পিত্তথলির বদলে ভুল করে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হয়।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন গোপালের এলাকার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিষয়টি সামনে আসার পর গলব্লাডারের পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য গোপালকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল।তবে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা বিভ্রাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগটি খারিজ করে দেন।এর মধ্যেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আসে। দপ্তরের তরফে প্রথমে বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফোন করা হয় গোপাল পোড়েলের সঙ্গে।গোপালের দাবি, তিনি আর্থিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল। চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ তাঁর হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।গোপাল আরও জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ঠিক কী কারণে এমন অভিযোগ উঠল, অস্ত্রোপচারের আগে এবং পরে কী কী পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

বৃষ্টি থামার নাম নেই! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আজও ভারী বৃষ্টি, বৃহস্পতিবার থেকে বদলাবে আবহাওয়া

নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে বাংলায় নাছোড় বৃষ্টি এখনই থামার সম্ভাবনা নেই। বুধবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলাগুলিতে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট।সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বর্ষার দাপট অব্যাহত। সামনে পুজো। তাই কবে বৃষ্টি কমবে, কবে মিলবে পরিষ্কার আকাশের দেখা, সেই প্রশ্নই এখন অনেকের মনে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি।বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে একাধিক নদীতে জলস্তর বেড়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। কয়েকটি জেলায় হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, নিম্নচাপটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা উপকূল, সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের এলাকায় রয়েছে। ধীরে ধীরে সেটি ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোচ্ছে। তবে তার প্রভাবে এখনও বাংলায় জলীয় বাষ্প ঢুকছে। ফলে বৃষ্টির পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটছে না।বুধবার কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে দিনভর বিক্ষিপ্ত ভাবে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ অবস্থান করায় সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তার জেরেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমতে পারে। তবে পুরোপুরি বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে।অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার থেকে বদলাতে পারে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে দক্ষিণবঙ্গে যখন ধীরে ধীরে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তখন উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় নতুন করে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা।সব মিলিয়ে পুজোর আগে বাংলার আকাশ থেকে বর্ষার দাপট কবে পুরোপুরি কাটবে, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের প্লাবনের পর নদীতে অচেনা মাছের ঢল, খেলে অসুস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসী! বড় সতর্কতা

নেপালের ভয়ংকর প্লাবনের প্রভাব এবার বিহারের নদীগুলিতেও পড়েছে। ত্রিশূলী নদীর জল গণ্ডক ও কোসি নদীতে এসে জলস্তর বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে উত্তর বিহারের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদী ও বন্যার জলে ভেসে আসছে প্রচুর মাছ। কিন্তু সেই মাছ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিহার প্রশাসন।বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের আপাতত নদী, পুকুর, হ্রদ বা জলাধার থেকে মাছ না ধরার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মাছ ধরা নয়, সেই মাছ কেনা, বিক্রি করা এবং খাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যার সময় নদী ও জলাশয়ের মাছ প্রবল জলস্রোতে দূরের এলাকায় চলে যেতে পারে। বন্যার জলের সঙ্গে দূষিত নর্দমার জল, মৃত প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থও নদী ও জলাশয়ে মিশে যায়। ফলে ওই জলে থাকা মাছের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার আশঙ্কা থাকে।বন্যাকবলিত এলাকায় কিছু অপরিচিত প্রজাতির মাছও দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই মাছ খেয়ে কয়েক জন অসুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে মাছ খাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কোনও ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বন্যার জল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে মাছ ধরে খাওয়া বা বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপালের প্রশাসনের তরফেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রচুর মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মৃতদেহ এবং মৃত পশুর দেহ পড়ে থাকার খবর সামনে এসেছে। এর ফলে বন্যার জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।এই পরিস্থিতিতে নদী বা বন্যার জল থেকে ভেসে আসা মাছকে নিরাপদ মনে না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে মার সব থেকেও বৃদ্ধাশ্রমে বাস, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal